কবি পরিচিতি (হা হা হা)
প্রথমেই উত্তর দিয়ে নিই, পরে প্রশ্নে আসবো।
আশির দশকের শেষের দিকের ঘটনা।
তখন আমার দাদীসহ হাতে গোনা কিছু মানুষ ছিলেন এলাকায়, যারা বই পড়তে ভালোবাসতেন আর পাড়ার বৌ-ঝিদের সেটা পড়ে পড়ে শোনাতেন। সেই সময়ে অনেক মানুষের ভিড় হত আমাদের বাড়িতে। যেমনটা হয়েছিল যখন আমাদের পাড়ায় প্রথম টিভি এলো। নিপ্পন সাদাকালো টেলিভিশন। প্যান্টের পেছনে সবসময় ধুলো লেগে থাকার কারনে আমাকেও নিচে বসতে হতো, পাটি পেড়ে। টিভি দেখার জন্য। এমনিভাবেই পাটি পেড়ে তখনকার যুগের কম পড়াশোনা জানা বা একেবারেই না জানা মেয়েরা আসতো দাদীর কাছে গল্প শুনতে। দাদীও কম শিক্ষিত ছিলেন, কিন্তু পড়ার প্রচুর আগ্রহ ছিল। উনি ভাবতেন এমন সব সুন্দর সুন্দর হৃদয়স্পর্শী গল্প যারা লেখেন, তাদের কল্পনার জগত কতই না বড়! তাদের ক্যানভাসটা না জানি কত না রঙে রঙিন! তাই তিনি একরকম মনে মনে ঠিক করে ফেললেন যে, উনার প্রথম নাতী/নাতনীর নাম। ছেলে হলে কি রাখবে, আর মেয়ে হলে কি।
দাদীর নিজের সন্তানদের নাম যথাক্রমে রবি, লুটু, স্বপন আর রিনা, এরমধ্যে দাদা-দাদীর প্রথম সন্তানের প্রথম সন্তান আমি। এই সিরিয়ালে উপরওয়ালা আমাকে পাঠালেন দুনিয়ায়, আর কবি হয়ে গেলাম। রবির ছেলে কবি। মানে জন্ম থেকেই জ্বলছি আর কি।
তখন আমার দাদীসহ হাতে গোনা কিছু মানুষ ছিলেন এলাকায়, যারা বই পড়তে ভালোবাসতেন আর পাড়ার বৌ-ঝিদের সেটা পড়ে পড়ে শোনাতেন। সেই সময়ে অনেক মানুষের ভিড় হত আমাদের বাড়িতে। যেমনটা হয়েছিল যখন আমাদের পাড়ায় প্রথম টিভি এলো। নিপ্পন সাদাকালো টেলিভিশন। প্যান্টের পেছনে সবসময় ধুলো লেগে থাকার কারনে আমাকেও নিচে বসতে হতো, পাটি পেড়ে। টিভি দেখার জন্য। এমনিভাবেই পাটি পেড়ে তখনকার যুগের কম পড়াশোনা জানা বা একেবারেই না জানা মেয়েরা আসতো দাদীর কাছে গল্প শুনতে। দাদীও কম শিক্ষিত ছিলেন, কিন্তু পড়ার প্রচুর আগ্রহ ছিল। উনি ভাবতেন এমন সব সুন্দর সুন্দর হৃদয়স্পর্শী গল্প যারা লেখেন, তাদের কল্পনার জগত কতই না বড়! তাদের ক্যানভাসটা না জানি কত না রঙে রঙিন! তাই তিনি একরকম মনে মনে ঠিক করে ফেললেন যে, উনার প্রথম নাতী/নাতনীর নাম। ছেলে হলে কি রাখবে, আর মেয়ে হলে কি।
দাদীর নিজের সন্তানদের নাম যথাক্রমে রবি, লুটু, স্বপন আর রিনা, এরমধ্যে দাদা-দাদীর প্রথম সন্তানের প্রথম সন্তান আমি। এই সিরিয়ালে উপরওয়ালা আমাকে পাঠালেন দুনিয়ায়, আর কবি হয়ে গেলাম। রবির ছেলে কবি। মানে জন্ম থেকেই জ্বলছি আর কি।
মাঝে মাঝে ভাবি, যে সকল ছেলেদের নাম রাজা, বাদশা, গোলাম, কর্ণেল, মেজর, ডলার, উজ্জ্বল, মেহেদী, জীবন কার্তিক, শ্রাবন ইত্যাদি ইত্যাদি তাদের নামও তো আমার নামের মতনই কোন না কোন পদবির সাথে অথবা কোন দৃশ্যমান বিষয়-বস্তুর সাথে জুড়ে গেছে। এখানে কিন্তু তাদের বর্তমান অবস্থার সাথে তাদের নামের তুলনা করলে নাও মিলতে পারে। তেমনি আমাকে যে কবি হতে হবে, এমন কিছু নেই কিন্তু।
আবার অপর দিকে, যে সকল মেয়েদের নাম শিল্পী, নদী, কবিতা, ছবি, রানী, পরী, জান্নাত, মায়া, মমতা, চৈতি, ফাল্গুনী, বর্ষা, শ্রাবনী, তৃষ্ণা ইত্যাদি ইত্যাদি তাদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারগুলো অনেকটাই কাছাকাছি।
আসল ব্যাপারটা হল, নামগুলো সবই বাংলা বা বাংলার সাথে সম্পর্কযুক্ত , যে কারনে আমরা সহজেই নামের মানে বুঝি এবং অনেকক্ষেত্রে না বুঝেই অনেক কিছু ধরে বসে থাকি।
বেঁচে গেছে তারা, যাদের নাম আরবীতে রাখা হয়েছে। কেউ মানেও তর্জমা করতে যায়না, মানুষের কৌতুহলের উত্তরপত্রও লিখতে হয়না। আমি জানি, আমার নাম “শায়ের” হলে অনেকের এমন অর্থবোধক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো না। কিন্তু আরবীতে “শায়ের” মানেই “কবি”।
আমার মায়ের নাম নাজমা খাতুন। আম্মী,আম্মু, মা এসব বলেই ডাকি। আম্মুর এক স্কুল বন্ধু পবন (মামা), আম্মুকে বললেন “নাজমার ছেলে নাসিম হবে”। হয়ে গেলো নাসিম। কিছু সময়ে বয়স্করা (কোন কোন ক্ষেত্রে পোলাপাইনেও) “নাসিম” না শুনে, “নাসির” শোনে। তাদেরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী “নাসিম” বা স্বাস্থ্যমন্ত্রী “নাসিম” বললে, তখন লাইন ক্লিয়ার হয়ে যায়।
এদিকে আমার বাপের নাম রবিউল আওয়াল(আব্বু বলে ডাকি), তাই নাসিমের পরে জুড়ে দিলেন আরবী কায়দায় “আল আওয়াল”। মুসলিম পরিবারের সদস্য হওয়ায় নামের পূর্বে মোহাম্মদ।
কলকাতার বাঙ্গালিদের মতন আমাদের বাংলাদেশেও প্রত্যেক মানুষের দুইটা করে নাম। ভালোনাম আর ডাকনাম। তাহলে কি দাঁড়ালো? ভালো নাম হল মোঃ নাসিম আল আওয়াল, আর ডাকনাম হলো কবি। মোঃ নাসিম আল আওয়াল কবি। আমার হুলিয়া।
নামের ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে এখন গায়ের জোরে মাঝে মাঝে লেখালেখি করার চেষ্টা করি আরকি। বউকে নিয়ে মাসে মাসে কবিতা লিখি, আশেপাশে ঘটে যাওয়া মজার কোন বিষয় নিয়ে লিখি, মানে ইজ্জত বাঁচাতে আর কি। কিন্তু লিখে না কামাতে চাইনা। কিছুটা হলেও যেন নামের সম্মান থাকে যেন-এ পর্যন্তই।
ঐ বাড়িতে মেয়ে হয়ে জন্ম নিলে হয়তো কোন ফটোগ্রাফার তুলে নিয়ে যেত।
দাদী ভেবে রেখেছিল মেয়ে হলে “ছবি” আর ছেলে হলে “কবি”। হাঁহাঁ

কোন মন্তব্য নেই