দেরি তো দেরিই। ১মিনিটই হোক বা ৩০ মিনিট।
সাধারণত আমি প্রতিদিন সকাল ৭ঃ৪০মিনিটে বাসা থেকে বের হই আর ৭টা ৫০/৫৩/৫৫ মিনিটে অফিসে সাইন ইন করি। আটটা থেকে অফিস, বিকাল ৫টা হয়ে রাত ৭/৮টা পর্যন্ত। আজকে সকাল সকাল রেডি হয়ে গিয়েছি কিভাবে যেন, ৭টা ৩৭ মিনিটে সাইকেলের সামনে এসে পকেট হাতড়ে দেখি চাবি নেই। ভাবি চাবি গেলো কোথায়! ইন্নালিল্লাহ... পড়তে পড়তে ব্যগটা ওলটপালট করে ফেললাম, পেলাম না। এদিকে ঘড়ির কাটা দৌড়াচ্ছে... দৌড়াচ্ছে... দৌড়াচ্ছে
কিভাবে দৌড়াচ্ছে বলি। আমাদের বাসা থেকে অফিস যাবার পথে একটা পার্ক পড়ে। মাসের কোন একটা শুক্রবারে সেখানে এলাকার মানুষজন তাদের ব্যবহৃত মালামাল ফেলতে আসে, যেগুলো সাধারণত ময়লা ফেলার প্যাকেটে রাখার নিয়ম নেই-সেগুলো।
প্ল্যাস্টিক,ইলেক্ট্রনিক্স, কাচ, টিনের সামগ্রী, বাসনকোসন, মেটাল, কাপড়চোপড় ইত্যাদি, অর্থাৎ যা পোড়ানো যায়না বা নিষেধ এমন সব কিছু। এখানে নির্ধারিত বাক্সে ব্যবহৃত মালপত্র ফেলতে হয়। কারো যদি কোনটা দরকার মনে হয় তো সেটা নেওয়া যাবে নির্দ্বিধায়। আমিও অনেক কিছুই ওখান থেকে নিয়ে এসেছি আমাদের বাসার জন্য। কয়েক পদের হ্যাঙ্গার, ফ্রাইং প্যান, ছাতা, কড়াইয়ের ঢাকনা, বই, কাঁচের জার ইত্যাদিসহ ছোটখাটো কিছু জিনিস। যেগুলো এমনিতে প্রয়োজন ছিলনা কিন্তু সামনে ফ্রি পড়ে থাকাতে অনেক প্রয়োজনীয় মনে করে তুলে এনেছি। একটা দেওয়া ঘড়িও এনেছিলাম। ব্যাটারি কিনে লাগানোর পর দেখি ঘড়ি কাজ করে না। ব্যাটারির টাকাটাই লস ভাবতে ভাবতে সেদিন শুয়ে পড়েছিলাম। সকালে উঠে দেখি ঘড়িতে একদম সঠিক সময় দেখাচ্ছে, ধারণা করলাম ঘড়িতে হয়ত জিপিএস আছে। হালকা করে গুগল করে দেখি কাহিনী সত্য। অথচ রাত্রে ব্যাটারি লাগানোর পর ঘড়িটা মাথা খারাপ করার মতন দৌড়াচ্ছিল। বিশেষ করে মিনিটের কাঁটা দৌড়াচ্ছে তো দৌড়াচ্ছে... দৌড়াচ্ছে...

দোয়া পড়তে পড়তে এদিকে আজ আমি ঠিক সকাল ৭টা ৪৯ মিনিটে সাইকেলের চাবি পেলাম। গতরাতে দুই চাকাতেই হাওয়া দিয়েছিলাম আর চাবিটা ওখানেই পড়েছিল সারারাত। যাক ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছিল আর এর ভেতরে ছাতা মাথায় দিয়ে উড়ে গেলাম অফিসে। টাইম পাঞ্চ করার জায়গাতে এসে দেখি ৫৭ বাজে। কার্ড ইন পরার পর ৫৮ বাজলো। হাফ ছেড়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম।
বিকেলের দিকে সাচো (কোম্পানির প্রধান) আসলেন এবং হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দিলেন।
বললেন "১ মিনিট দেরির কারণে তোমার ৩০ মিনিটের বেতন কাঁটার রশিদ"। করিম ভাই আমাকে কথাগুলো গুলিয়ে খাওয়িয়ে দিলেন।
৭টা ৫৭ পর্যন্তও ঠিক ছিল কিন্তু ৫৮ না।।
টাকার চিন্তা না করেই আমার প্রথম প্রশ্ন "যদি আমি ৮ঃ১৫ মিনিটে আসতাম তাহলেও কি ৩০ মিনিটের টাকা কাটতেন?"
উনি বললেন, হ্যাঁ।
এবার আমি বাংলায়ই বলে উঠলাম, "তাইলে আমি এমন কুত্তা দৌড়ানি দিলাম ক্যান!"
গল্প থেকে যা শিখলামঃ
দেরি তো দেরিই। ১মিনিটই হোক বা ৩০ মিনিট।
[ছবিতে একটি পার্ক, চাবিসহ সাইকেল, চাবি রাখার ব্যাগ এবং আধা খাওয়া আপেলের একটা ফেক স্টিকার দেখা যাচ্ছে]
কিভাবে দৌড়াচ্ছে বলি। আমাদের বাসা থেকে অফিস যাবার পথে একটা পার্ক পড়ে। মাসের কোন একটা শুক্রবারে সেখানে এলাকার মানুষজন তাদের ব্যবহৃত মালামাল ফেলতে আসে, যেগুলো সাধারণত ময়লা ফেলার প্যাকেটে রাখার নিয়ম নেই-সেগুলো।
প্ল্যাস্টিক,ইলেক্ট্রনিক্স, কাচ, টিনের সামগ্রী, বাসনকোসন, মেটাল, কাপড়চোপড় ইত্যাদি, অর্থাৎ যা পোড়ানো যায়না বা নিষেধ এমন সব কিছু। এখানে নির্ধারিত বাক্সে ব্যবহৃত মালপত্র ফেলতে হয়। কারো যদি কোনটা দরকার মনে হয় তো সেটা নেওয়া যাবে নির্দ্বিধায়। আমিও অনেক কিছুই ওখান থেকে নিয়ে এসেছি আমাদের বাসার জন্য। কয়েক পদের হ্যাঙ্গার, ফ্রাইং প্যান, ছাতা, কড়াইয়ের ঢাকনা, বই, কাঁচের জার ইত্যাদিসহ ছোটখাটো কিছু জিনিস। যেগুলো এমনিতে প্রয়োজন ছিলনা কিন্তু সামনে ফ্রি পড়ে থাকাতে অনেক প্রয়োজনীয় মনে করে তুলে এনেছি। একটা দেওয়া ঘড়িও এনেছিলাম। ব্যাটারি কিনে লাগানোর পর দেখি ঘড়ি কাজ করে না। ব্যাটারির টাকাটাই লস ভাবতে ভাবতে সেদিন শুয়ে পড়েছিলাম। সকালে উঠে দেখি ঘড়িতে একদম সঠিক সময় দেখাচ্ছে, ধারণা করলাম ঘড়িতে হয়ত জিপিএস আছে। হালকা করে গুগল করে দেখি কাহিনী সত্য। অথচ রাত্রে ব্যাটারি লাগানোর পর ঘড়িটা মাথা খারাপ করার মতন দৌড়াচ্ছিল। বিশেষ করে মিনিটের কাঁটা দৌড়াচ্ছে তো দৌড়াচ্ছে... দৌড়াচ্ছে...

দোয়া পড়তে পড়তে এদিকে আজ আমি ঠিক সকাল ৭টা ৪৯ মিনিটে সাইকেলের চাবি পেলাম। গতরাতে দুই চাকাতেই হাওয়া দিয়েছিলাম আর চাবিটা ওখানেই পড়েছিল সারারাত। যাক ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছিল আর এর ভেতরে ছাতা মাথায় দিয়ে উড়ে গেলাম অফিসে। টাইম পাঞ্চ করার জায়গাতে এসে দেখি ৫৭ বাজে। কার্ড ইন পরার পর ৫৮ বাজলো। হাফ ছেড়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম।
বিকেলের দিকে সাচো (কোম্পানির প্রধান) আসলেন এবং হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দিলেন।
বললেন "১ মিনিট দেরির কারণে তোমার ৩০ মিনিটের বেতন কাঁটার রশিদ"। করিম ভাই আমাকে কথাগুলো গুলিয়ে খাওয়িয়ে দিলেন।
৭টা ৫৭ পর্যন্তও ঠিক ছিল কিন্তু ৫৮ না।।
টাকার চিন্তা না করেই আমার প্রথম প্রশ্ন "যদি আমি ৮ঃ১৫ মিনিটে আসতাম তাহলেও কি ৩০ মিনিটের টাকা কাটতেন?"
উনি বললেন, হ্যাঁ।
এবার আমি বাংলায়ই বলে উঠলাম, "তাইলে আমি এমন কুত্তা দৌড়ানি দিলাম ক্যান!"
গল্প থেকে যা শিখলামঃ
দেরি তো দেরিই। ১মিনিটই হোক বা ৩০ মিনিট।
[ছবিতে একটি পার্ক, চাবিসহ সাইকেল, চাবি রাখার ব্যাগ এবং আধা খাওয়া আপেলের একটা ফেক স্টিকার দেখা যাচ্ছে]
কোন মন্তব্য নেই