বিশ্বকাপে বাঙালীর পতাকা কেনা
বিশ্বকাপে বাঙালীর পতাকা কেনা
মাসের শেষ কয়টা দিন মনে হয় বিল গেটসেরও হাতে টাকা পয়সা থাকে না। আমিও তার তুলনায় কম কিসে? আমার কাছেও মাসের শেষ দিকটা যেন ইফতারের শেষ কয়েক ঘন্টার মতন লাগে। ফুরাতেই চায়না। মানিব্যাগটা একেবারেই শুকিয়ে যায়, যেহেতু পেটে ঠিক মতন খাবার পড়ে না । কয়েকটা বড় বা মেজো সাইজের নোট একা একা থাকে, আর থাকে কয়েকটা ছোট ছোট নোট। হিন্দি সিনেমাতে নায়ক বা নায়িকা একজন যখন আরেকজনের কাছ থেকে সরে যায়, তখন একটা প্রচলিত ডায়ালগ আছে “যদি সে তোমাকে ভালোবাসে, তাহলে পেছনে ফিরে দেখবে”। তেমনি হাতের টাকাগুলো যখন আরেকজনের হাতে চলে যায়, তখন কেমন যেন ফিরে ফিরে তাকায়।
আজকে অফিসে থেকে ফেরার পথে দেখি একজন ব্যবসায়ী একটা বাঁশের গায়ে বেশ কয়েক প্রকার রঙের কাপড় পেঁচিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। তার কাছ থেকে আমারও একটা সবুজ-হলুদ-নীল বিশেষ কাপড় কিনতে ইচ্ছা হলো। আমি লোকটাকে দাঁড় করালাম দেখে প্রায় আমারই বয়সী একজন রিকসাচালক এসে জমলো। উনি চাইলেন হলুদ, সবুজ আর কালো।
আমার কাপড়টার জন্য দরদাম করলাম ১০০/- টাকা। কিন্তু রিকশাওয়ালা ভাইয়ের কাপড়(একই সাইজের) ১২০/- এর কমে দেবেই না। আমি উনাকে ইশারা করে বললাম ১০০/- দিতে। অগত্য রিকশাওয়ালা ভাইও তার পকেটের এ কোণা সে কোণা সেঁচে বের করলেন। রাজী হয়ে গেলেন কাপড় বিক্রেতা।
আমরা আমাদের কাপড়ের হিসাব বুঝে নিতে না নিতেই আরেকজন এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন আমি কত দিয়ে নিলাম। আমি বললাম ১০০/-। তখন উনি কাপড়ওয়ালাকে বললেন একটা আকাশী নীল আর সাদা রঙ সম্বলিত একটা কাপড় দিতে।
আমি আর রিকশাওয়ালা ভাই অপেক্ষা করলাম উনার জন্য। উনার কেনা হয়ে গেলে আমরা একই সাথে তিনজন তিন রাস্তায় রওনা দিলাম। সামান্য একটু দূর যেতেই আমার ‘একা একশ’ টাকার নোটটার কথা মনে হলো। পেছনে ফিরে তাকালাম। আমার জন্য অপেক্ষা করছিল পৃথিবী অন্যতম সুন্দর একটি দৃশ্য।
সেটা হলো ‘রাস্তার বাকী দুই পাশ থেকেও বাকী দুইজন একই সময়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি বিনিময় করা’।
প্রচলিত ডায়ালগ আছে “যদি সে তোমাকে ভালোবাসে, তাহলে পেছনে ফিরে দেখবে”, আমরাও পেছনে ফিরে দেখলাম। হয়ত আমরা ব্রাজিল, জার্মানি আর আর্জেন্টিনা পরস্পরকে ভালবাসি আপ্রাণ।

কোন মন্তব্য নেই