Header Ads

স্মৃতিকাতরতা

স্মৃতিকাতরতা


কন্সট্রাকশান ফার্মে কাজ করতেন আমার দাদা। শুনেছি রাজশাহী বিভাগের অনেক রাস্তা, কালভার্ট, বিল্ডিংয়ের কাজ করেছিলেন তিনি।
দাদার বস ছিলেন আবার আমার বাবার বস। তো বাবাও একই চাকরী করতেন। রাজশাহীতে এলে রাবির সামছুজ্জোহা হল দেখতে যাই, ভাবি হয়ত ঠিক এই জায়গাটাতেই দাদা দাঁড়িয়ে ছিল।
একবার যশোরে গেলাম। দাদীর কাছ থেকে আগেই শুনেছিলাম যে দাদা-দাদী একবার মনিহারে সিনেমা দেখতে গিয়েছিল, আমিও গেলাম। আমি সিনেমার হলের সিটের গায়ে একটু হাত বুলিয়ে দেই। হয়তো এমনই কোন একটা সিটে উনারা বসেছিলেন।
এরকম ঘটনা আরো অনেক আছে। বলে শেষ করা যাবেনা। সৈয়দপুর, দিনাজপুর, হিলি, বাংলাবান্ধা, যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাংগা, পাবনা, ঈশ্বরদী, নাটোর, নওগা সহ আরো অনেক জায়গা। সব জায়গা নিয়েই পূর্বপুরুষদের কিছু না কিছু গল্প আছেই।
বাবার সাথে একটু আগেই কথা হলো। উনি বললেন, যখন উনি চাপাই নওয়াবগঞ্জে থাকতেন তখন আলাউদ্দিন হোটেলে খেতেন। সেখানকার মিষ্টি নাকি সরবরাহ করা হতো রাজশাহীর বড় বড় মিষ্টির দোকানে। ব্যাস, আমি গিয়ে হুড়মুড় করে খেয়েদেয়ে আসলাম।
তো আমি যেমন আমার পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করে এমন করে বেড়াই, এটা আমার কাছে অনেক ভালোলাগার একটা ব্যাপার। সম্ভবত পাবনার রূপকথা সিনেমা হলে ১৯৯৪/১৯৯৫ সালের ওদিকে আব্বু, আম্মু, মামা মামী মিলে সিনেমা দেখেছিলাম।
সেদিন গিয়েছিলাম ঐ গলিতে, শাকিব খানের মুখ দেখে এসেছি।
একটা ব্যাপার লক্ষ্য করে দেখলাম যে, আমার পূর্বপুরুষেরা সেই রকম মাত্রায় ভ্রমণ করেছেন। বড়দাদা তো দেশের বাইরেও অনেক জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছেন। হয়ত তাদের কারো জিনেই আমাকে খেয়ে দিয়েছে।
আমি খুবই স্মৃতিকাতর আর আবেগী একটা মানুষ।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.