জাপানে জীবন
জাপানে জীবন
(হাতে সময় নিয়ে বসুন, জোরে জোরে Reading Friendly লেখা নয়)
ভূমিকাঃ টেকনোলজির মা-বাপকে এক করে ছেড়ে দিয়েছে যে দেশ, যে দেশে আপনার কল্পনার চেয়েও বেশী সুবিধা, অতিরিক্ত মাত্রার ভদ্রলোকদের বাস, আবহাওয়া এবং মানুষদের মাথা ঠান্ডা যে দেশে, যে দেশে ট্রেন আসে সঠিক সময়ে, ফোন নম্বর ব্যবহার করেই বাসার লোকেশনে যাওয়া যায় যে দেশে-সে দেশের বাসিন্দা হয়েছি এখন। এদেশে ফরেনার। প্রবাসী বাঙালী।
তো দেশ থেকে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী প্রতিনিয়ত ভালবেসে কিছু না কিছু জিজ্ঞাসা করেই, তাই একই কথা ২, ৩, ৪, ৫ বা কোন কোন ক্ষেত্রে ১০ বারেরও বেশি বলতে হয়। সেজন্য আজকের দিন পর্যন্ত আমার অনুভূতির আপডেট লিখছি।
সত্যি বলতে কি, গতকাল আমাদের নিজস্ব ইন্টারনেট পেয়েছি। এর আগে ফিরি ওয়াইফ সরি, ফ্রি ওয়াইফাই-ওয়ালা দোকানে ঢুকে এটা সেটা কেনার ভান করে ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম।
জাপানে এসে প্রথমদিনগুলোর কিছুদিন ঘুরে বেড়িয়েছি একজন হাওয়াইয়ান বন্ধুর সাথে আর বেশ কিছুদিন হলো চাকরিতে জয়েন করেছি।
জীবনযাপনের জন্য সুবিধাঃ মনে করেন হিসু করতে গেলেন, হাতে ব্যাগ বা ছাতা। এটা রাখার মতন একটা জায়গা থাকতো যদি, ভাবছেন? হ্যাঁ, খেয়াল করে দেখুন একটা জায়গা রেখে দেওয়া আছে।
টয়লেটে বসলেই হালকা গরম ভাপ দেবে নিচে থেকে, সুবিধা হবে ডাউনলোড হতে; কাঁচা খাবার থেকে রান্না করা খাবার, সব প্যাকেটে পাবেন-শুধু ওভেনে দেবেন-খাবেন। স্টেশনে ঢোকার সময় ওয়ালেট ছোঁয়াবেন, বের হবার সময় ছোঁয়াবেন-টাকা কেটে নেবে। মোবাইলে জিনিস অর্ডার করবেন বাসায় দিয়ে যাবে। কোনায় কোনায় পার্ক। ফুটপাতে একই সাথে হাটার এবং সাইকেল চালানোর সুবিধা। কোন ধরণের হর্ণের হরনি শব্দ নেই। আপনি নিজে থেকে বুঝে সাইড না দিলে পেছনের সাইকেলওয়ালা বেল দেবে না। সারা টোকিও ঘুরে এসে দেখবেন জুতোর উপরে গ্লেস দিচ্ছে। চকচক শব্দ হচ্ছে, ধুলো নেই। রাস্তায় সিগারেটের উচ্ছিষ্ট অংশ পড়ে নেই, কলার খোসা পড়ে নেই। সাদা বা কালো, কোন ধোঁয়া নেই রাস্তায়, ওভারটেকিং বলে কিছু পাইনি-সবাই শুধু সাইড দেয়। আপনাকে না চিনলেও মাথা নুইয়ে অভিবাদন জানায়। আপনার বাসস্থান থেকে মোটামুটি কাছাকাছিই ট্রেন বা বাস স্টেশন আছে, স্টেশনের পাশেই খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা। শিক্ষার সুবিধাও হাতের কাছেই। ছেঁড়া টাকা নাই, ১, ৫, ৫০, ১০০ এবং ৫০০ টাকার কয়েন। ১০০০, ৫০০০ আর ১০০০০ এর নোট, আর এগুলো মেশিনেই গুনে দেয়। রাস্তার ধারে, মোড়ে মোড়ে ভেন্ডিং মেশিনে জুস, পানি, চা, কফি রাখা আছে। ভেতরে কয়েন দেবেন প্রোডাক্ট বের হয়ে চলে আসবে-মুলামুলির মতন খানদানী মামুলী বিষয় এখানে নেই। চলতি পথে কাছাকাছিই প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য সেভেন ইলেভেন, ল-সন, ফ্যামিলি মার্টের মতন সুপার শপিং মল আছে, যেখানে কেনাকাটার পাশাপাশি মলত্যাগেরও ব্যবস্থা আছে।
এমন হাজারো দৈনন্দিন নাগরিক সুবিধা দিয়ে ভরপুর জাপান। যদিও একারণে সরকার প্রচুর টাকা ট্যাক্স পায়। তাছাড়া কোথাও কোন দেরী নেই। কুরিয়ার কে বলবেন সন্ধ্যা ৭টাতে ডেলিভারি দিবেন, ঠিক ৭ টাতেই আসবে। ট্রেনে লেট নেই, বাসে লেট নেই, কোথাও না। সব টাইম টু টাইম। Alcohol পাওয়া যাচ্ছে পানির দামে। সরকারী অফিসের সুবিধা কল্পনাতীত। আপনাকে আটকে নয় বরং তাড়াতাড়ি বিদায় করতে পারলে যেন বাঁচে।
অসুবিধাঃ আমাদের বিদেশী চেহারা, ভাষা, আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা খাবার না পাওয়া, তীব্র শীত, জিনিসপত্র দামী। দামী বলতে-১ পিস আলু ৭৮/-, ডিম ১৬টাকা পিস, ৩টা পেঁয়াজ ১০৮/-, ১০টা মরিচ ১০৮/-, ঠোঁট ফাটলে ১ টা লিপজেল ৫০০/- ইত্যাদি। ট্যাক্সির সর্বনিম্ন ভাড়া ৪১০/- এক কিলোমিটার পার হতে না হতেই দেখবেন ১০০০/- ছাড়িয়ে গেছে। একটা ছাতা ৩০০/-। মোটামুটি সবকিছুতেই শুকুরের ছোঁয়া আছে, মসজিদের অভাব, আর সর্বত্র লাইনে দাঁড়াতে হয়। এরা কেউ কারো সাথে কথা বলে না।
আমার কাজঃ টয়োটা, নিসান, লেক্সাস, হোন্ডাসহ জাপানী ব্র্যান্ডের গাড়ির পার্টস বানানোর অফিস কাম ফ্যাক্টরিতে কাজ আমার। মেশিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দুইটা মেশিনের অপারেটরের কাজ করি। সকাল ৮ থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। মাঝখানে ৫৫ মিনিট ব্রেক (যেহেতু তারা আপনাকে ৫ মিনিট আগেই কর্মস্থলে আশা করে)। খাবার নিজে রান্না করে নিয়ে যেতে হয় কারণ ওদের দেওয়া খাবারে Butaniku থাকে। ওভারটাইম করতে পারবেন সর্বনিম্ন ৩ থেকে ৫ ঘন্টা পর্যন্ত। সপ্তাহে শনি-রবি ছুটি। এই দুইদিনে পরবর্তী ৫ দিনের প্রস্তুতি নিই।
সারাদিনই ফ্যাক্টরির আর সবার মতন দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়। ভারী জিনিসপত্র ওঠানো-নামানোর কাজ সাধারণত নেই বললেই চলে, আর যদি থাকে তো তাহলে পাতলা মেশিন আছে তার জন্য।
স্ট্যাপলার পিনের সাইজ থেকে শুরু করে গাড়ির দরজার হাতলের সাইজের অনেক রকমের স্টিল, এলুমিনিয়াম, নিকেল, প্লাস্টিকের প্লেট তৈরি করা কাজ।
স্লাইড ক্যালিপার্স, ভার্নিয়ার স্কেল, মাইক্রোস্কোপ দিয়ে এ সকল প্রোডাক্ট সূক্ষভাবে চেক করার কাজও আমার তালিকায় আছে।
কাজের সময় মোবাইল আমার থেকে ৩০ গজ দূরে থাকলেও তা ধরা-ছোঁয়ার কোন নিয়ম নাই। অতএব কাজের সময় মোবাইল বন্ধ। চাঁদপুরে এক নাপিত মশাই আমার দাড়ি কামিয়েছিল ফেসবুকিং করতে করতে। বাংলাদেশে মোবাইল এবং গাড়ি একসাথে চালাতে দেখেছি অনেক জায়গায়।
বেতনঃ ভদ্রলোকে বেতন জিজ্ঞাসা করে না। তবে জাপানে অনেক টাকা উপার্জন এবং সমানুপাতিক হারে খরচও।
ঠিকানাঃ অফিসের ঠিকানা Hekinan, Aichi Prefecture.
আর আমার বাসা এখন Hekinanchuo Station এর সাথে, স্টেশন মাস্টারের শার্টের কলারে ময়লা আছে কিনা তাও দেখা যায়।
কি-কিভাবে খাইঃ বাসাতে এসি, ফ্রিজ, ওভেন, রাইস কুকার, আনলিমিটেড গ্যাসসহ চুলা, ঠান্ডা-গরম পানির ব্যাবস্থা আছে। দোকান থেকে শুকুর বেছে খাবার কিনে এনে ওভেনে দিই। চামচ, কাটা চামচ, কাঠি দিয়ে প্রয়োজন বুঝে খাই। সেদিন প্রায় ৪৪০/- টাকা করে দুই কেজি চাউল কিনে এনেছি। হাবিজাবিই খাচ্ছি এখন অগত্যা।
কি-কিভাবে হাগিঃ এদেশে এই কাজ খুবই কঠিন। আমার বাসায় কোন মিনি শাওয়ার নাই। একটা পানির ট্যাব ঠান্ডা-গরম ফাংশন। পানির নবটা বামে ঘোরালে বাথট্যাবে পানি পড়ে আর ডানে বেসিন।
টয়লেটের ফ্ল্যাশ আছে। অর্থাৎ কাজ শেষে ডান হাত বাড়িয়ে গোশলের হ্যান্ড শাওয়ারটা দিয়ে বাম হাতের কাজ করতে হয়। আর ঠান্ডা-গরমের অ্যাডজাস্ট করতে করতেই বেলা ডুবে যায়। যদিও অন্যান্যদের বাসায় ভাল সিস্টেম আছে, যেখানে হাতে টিস্যু নিয়ে পানিটা মুছে ফেলবেন শুধু-বাকীটা ওরাই করে দেবে। সামনে বাটন দাবালে পানি পিচকারি দিয়ে পেছনের ময়লা পরিষ্কার করে দেয়।
আর এতো হাজার পদের খাবার খেলে যা বের হয়, তার পরিমাণ, বর্ণ কোনটাই তৃপ্তির হয়না।
কোথায়-কার সাথে শুইঃ আপাতত যে বাসায় আছি সেখানে আমাদের কুষ্টিয়ার হোস্টেলের মতন একটা কামরা। চারটা বেড আরামে পেতে ফেলা যায়। সৌভাগ্য যে, আমরা মাত্র দুই জন থাকি। রুমের ভেতরে ফুটবলও খেলা যাবে। খেলি, তবে মোবাইলে। Pro Evolution Soccer. রুমের দ্বিতীয় ব্যক্তি টাংগাইলের বাসিন্দা, উনার নাম আরিফুর আমার চেয়ে কয়েক বছরের বড়। একইসাথে আমরা এদেশে এসেছি। আমাদের অফিস একটাই, শুধু কাজটা আলাদা।
যাওয়া-আসা করি যেভাবেঃ বাসা থেকে ১৫ মিনিট আরামে হাটলেই অফিস/ফ্যাক্টরি। দেরী করলে ৩০ মিনিটের বেতন মাইর। সকালে ঠান্ডা বাতাস থাকে, ০° থেকে ৫/৭° মোটামুটি তাপমাত্রা এখানে। রাস্তায় লোকজন কম। এখনো ট্যাক্সি চোখে পড়েনি।
পৃথিবীখ্যাত টয়োটার জন্মভূমি এই Aichi তে, তাই এইখানে মানুষের চেয়ে, বাড়িঘরের চেয়ে গাড়ি বেশী। আর টয়োটা বলতে আমাদের চোখে যেসব গাড়ি ভাসে, সেসব না কিন্তু। একদম লেটেস্ট। এক সিট, দুই সিট, চার সিট, ছয় সিট সব সাইজের, হাজার রকমের, হাজার রংয়ের-ঢংয়ের গাড়ি। কয়েকটা গাড়িকে তো আমি খেলনা মনে করে ছিলাম। ছোট আর সুন্দর। তো যাইহোক-গাড়ি কেনা সহজ, দাম কম। ৩০,০০০-৪০,০০০ থেকে শুরু। কিন্তু পার্কিং আর মেইনটেনেন্সএর খরচ বাড়িতে জমি বিক্রি করে এনে দিতে হবে।
তাই আপাতত ১০,০০০/- দিয়ে সাইকেল কেনার কথা ভাবছি। অবশ্য আমার বাসার স্টেশনের পরের স্টেশনটিই অফিসের স্টেশন এবং শেষ স্টেশন। ভাড়া ২০০/-।
অবসরে যা করিঃ অবসর!! এই নামে কিছু নাই এখানে। থাকলেও আমার নেটওয়ার্কের বাইরে। আমি পাচ্ছি না। মাঝে মাঝে একটু পেলে আপনজনদের সাথে যোগাযোগ করি, জাপানী ভাষা শেখার বই পড়ি, গেইম ছাড়িনি। জাপানে বোধহয় ৯৯ শতাংশ মানুষই গেইম খেলে। যারা খেলেনা তাদের হাতে নির্ঘাত সমস্যা আছে। আর বাচ্চা বুড়ো সবাই খেলে। না দেখলে বিশ্বাস হবে না। সবাই ট্রেনে যে যার মতন একহাত দিয়ে ঝুলে আছে, আরেক হাত দিয়ে গেইম।
যা করার সুযোগ নাইঃ আইনের অবজ্ঞা করার সুযোগ নাই। অলসতার সুযোগ নাই। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলার সুযোগ নেই, এমনকি যখন তখন ময়লা ফেলাও নিষিদ্ধ। ময়লার প্রকার বুঝে দিন ধার্য করা আছে। যেগুলো পোড়ানো যায় সেগুলো একদিন, বাকীগুলো আরেকদিন। একটু তেড়িবেড়ি করলেই ফাইন করে ফাইন ধরিয়ে দিবে।
সাধ আছে সাধ্য নাইঃ এদেশে জায়গা জমি কিনে একটা মসজিদ বানাতে চাই, পাছে যদি ওপরের দেশে মাফ পেয়ে যায়! তাছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভাল জাতের মানুষদের (সুযোগ সাপেক্ষে) এদেশে এনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার সাধও আছে।
সাধ্য আছে সাধ নাইঃ গায়ে পড়ে মানুষের বিপদে সাহায্য করার সাধ কমে যাচ্ছে। আইফোন নামক মোবাইলের সাধ নাই। এদেশে প্রেম বা বিয়ে করার সাধ নাই। নিজের বউকে দেশ থেকে এদিকে এনে সংসার সাজাতে চাই। ম্যালা ট্যাকা কামানোর সাধ নাই।
যাদের কথা মনে পড়েঃ জিন্না ভাইয়ের প্রতিটা কথা- লাইন মনে পড়ে। উনার প্রবাসী জীবনের গল্প শুনে আসছি প্রায় ১০ বছর ধরে।
হৃদয়পুরে আমার প্রাণপ্রিয় পরিবার। শশুরবাড়ির গুরুজনদের। একমাত্র বউয়ের কথাও মনে পড়ে (এটা বানিয়ে লিখলাম, বোঝেনই তো
)। ডিনেটের কথা অনেক অনেক বেশি মনে পড়ে। আমার কাইট টীমের কথা মনে পড়ে। যাদের সাথে আমার জীবনের প্রায় ৭ টা বছর কেটেছে। আমার সেকেন্ড ফ্যামিলি। আর আমার আপনজন, প্রিয়জন কিংবা প্রয়োজনের সময় যাদের ছাতা হিসেবে পেয়েছি-তাদের কথা আরো বেশী মনে পড়ে। জাপানে আসার সাহস, স্বপ্ন, তথ্য, মানসিক এবং আর্থিক সমর্থন দেওয়া মানুষদের কথা ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। বাংলাদেশের রূপ যৌবনের কথা অবশ্যই ভোলার নয়। সারা বাংলাদেশ দাপিয়ে বেড়িয়েছি-ভোলা সম্ভব না।কারো হাসি মনে পড়ে তো কারো হাসানো কথা। কারো বিরক্তকর চেহারা মনে পড়ে তো কাউকে বিরক্ত করার প্রতিক্রিয়ার কথা। কারো অবদানের কথা, কারো অভিযোগের কথা। আম্মুর স্পর্শ, আব্বুর হাজারো বিধিনিষেধ সম্বলিত প্রশ্নের কথা। কিছু গন্ধ মনে পড়ে, কিছু মন মাতানো স্বাদ! আহা!
আর অবশ্যই যাদের সাথে জীবনের অনেক সময় কাটিয়েছি, হাজার রকমের স্মৃতি তাদের কথা মনে পড়ে। আমার কর্মস্থল সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের দোয়া, ভালবাসার কথাও মনে পড়ে।
আসলে সবার কথাই মনে হয়। যেহেতু মনে না পড়ার কোন কারণ নেই এখানে। একা একা আর কাজ করতে করতে স্মৃতিচারণ করা ছাড়া আর কিছু করা যায় নাকি!?
এ দেশের আলোকে আমার দেশে যা থাকলে ভাল হয়ঃ শিক্ষা, আইনের প্রয়োগ, সভ্যতা, জবাবদিহিতার ভীতি, টিকেট কেটে ট্রেন ভ্রমণ, ট্রাফিক সিগন্যাল। এক কার্ডেই সব কাজ সারা যায় এমন কিছু।
জাপানীরা যেমনঃ অতিরিক্ত ভদ্রলোক। রাস্তা পার হবার সময় পারলে একজন আরেকজনের হাতে পায়ে ধরে। একজন বলে "ভাই আপনি আগে যান, প্লিজ" আরেকজন বলে, "না ভাই, আপনিই আগে যান"।
মেয়েরা কোনমতেই চোখে চোখ রাখে না (এটা আমার জন্য ভালো, চোখাচোখি হলে যদি প্রেমে পড়ে যায়!
)। ইংলিশের অ-আ কিছুই বোঝেনা। যে উচ্চতা পর্যন্ত আপনি ভাবতে পারবেন না, তার চেয়েও বেশী সহযোগিতা করে ওরা।অনেক পরিশ্রমী আর দেশপ্রেমী।
ওদের পেছনের খবর নিয়ে জানিলাম যে, পানি কম আর টিস্যু ছাড়া কিছু ব্যবহার করে না।
বিদেশে বাঙালীঃ সাবেক সহকর্মী আরিফ Ariful Islam ভাই (যার সহযোগিতায় জাপানে) ছাড়া বাকী সবাই স্বার্থপর। ডিনেটে কাজের সূত্রধরে পরিচয় উনার সাথে। এই ভদ্রলোক নিজের কাঁধে দ্বায়িত্ব নিয়ে খাওয়াচ্ছেন, শোয়াচ্ছেন, ইন্টারনেট দিচ্ছেন, রাস্তা পার করে দিচ্ছেন এবং তা শুধু ভালবেসে, স্নেহ করেন বলে আর সম্পূর্ণ দ্বায়িত্ববোধ থেকে। গতকাল টোকিও থেকে হালালফুড হিসেবে মুরগী, গরুর মাংশ, মরিচ, ডাল ইত্যাদি পাঠিয়েছেন। শুধু "ধন্যবাদ" লিখে যার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হয়না।
উপসংহারঃ জাপানে এসে অনেকের সাথে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির কারণে যোগাযোগ করতে পারিনি আর কারো সাথে ইচ্ছা করেই করিনি। এখন থেকে পারবো আশা করছি।
আমার প্রতি কিছু মানুষের ভালোবাসার কথা এখানে ইচ্ছা করেই কম লিখেছি, আর কিছু মানুষের ভালবাসার কথা লিখিইনি (নাম লিখতে চেয়েছিলাম, পরে ভাবলাম যে নাম লিখে তাদের ছোট না করি)। তাদের কথা লিখলে ফেসের বুকে জায়গা দিতে পারবে না।
(সময় বের করে আমার ঢাউস সাইজের বাসি, পঁচা আর নোংরা রচনা পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
প্রশ্ন থাকলে করবেন।)

কোন মন্তব্য নেই