সাকুরা ফুলের আশায়
সাকুরা ফুলের আশায়
সেই কবে থেকে বসে আছি জাপানের বিখ্যাত সাকুরা উৎসব বা চেরি ব্লোসম দেখব বলে। কিন্তু সময় হচ্ছে না। ইন্টারনেটে দেখলাম যে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চেরি ব্লসম থাকবে। আমাদের সিটির আশেপাশের চেরি ব্লোসম দেখা যাবে আমার দাদীর শহরে৷ মানে আঞ্জু সিটিতে। দাদীর নাম যেহেতু আঞ্জুমান আরা। তাই আর কি।যাইহোক, সেদিন এরকম একটা সময় যে আজকাল এর ভেতরেই ফুল ফোটা শুরু হবে এমন। আমি যাব কি যাব না ভাবতে ভাবতে এক রকম দোটানার ভেতরে যাত্রা শুরু করলাম বিকেল চারটের দিকে। ভাবলাম যে পৌঁছাতে পৌঁছাতে পার্কটা খোলা থাকবে এবং সন্ধ্যা ছয়টার ভেতরে চলে আসতে পারবো। সেই ভেবে রওনা দিলাম ১২ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে। যখন গেলাম তখন এটা দেখলাম যে, কোন গাছে কোন ফুল ফোটেনি। অথচ আমি ধারণা করলাম হয়তো ফুল ফুটে ছিল কিন্তু সন্ধ্যা হওয়ার কারণে ফুল আবার বুজে গেছে।
ততক্ষনে আমার বোকামি বুঝতে পারলাম যে আমি আসলে পার্ক কতক্ষণ খোলা থাকবে সেটা বিবেচনা করে এসেছি, অথচ ফুল ফুটবে কি ফুটবে না কিংবা আদৌ ফুটেছে কিনা সেটা বিবেচনা করে আসিনি। হুদাই সাইকেল মেরে এতো দূর আসলাম।
বোকামির জন্য কপাল চাপড়াতে লাগলাম এটা ভাবলাম যে একমাত্র আমিই বোকা কিন্তু কিছুক্ষণ পরে আমার ধারণা ভুল করে দিল প্রায় ১০০ জন জাপানিজ।
আমি খেয়াল করে দেখলাম আনজু সিটি হলের পাশে প্রায় ১০০ জন মানুষ ঘোরাঘুরি করছে তাতে এবং সবার হাতেই কমপক্ষে দুইটা মোবাইল এবং সর্বোচ্চ চারটা। কেউ কেউ গলায় একটা হার্ড বোর্ড ঝুলিয়ে তার উপরে চারটা মোবাইল পাশাপাশি রেখে দিয়েছে। একবার ভাবলাম এই দেশের মানুষ ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করার জন্য এতটা উতলা হতে পারেই না। তাই কাছে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম। যেটা দেখলাম তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। সবাই মিলে পোকেমন গো গেম খেলছে। সেখানে আমার দেখা ১৩/১৪ বছর বয়সী বাচ্চা থেকে শুরু করে ৭০/৮০ বছর বয়সী ছেলে-মেয়ে, বুড়ো-বুড়ি, তরুণ -তরুণীসহ সব বয়সী মানুষই রয়েছে এবং সবাই পোকেমন গো খেলায় ব্যস্ত।
যারা পোকেমন গো খেলেছেন তারা জানবেন পোকেমন বল সংগ্রহ করার জন্য নিকটস্থ কোনো বড় টাওয়ারের কাছে যেতে হয় সেখানে বল পাওয়া যায় এবং জায়ান্ট, রেয়ার পোকেমন পাওয়া যায়। এক সময় আমিও খেলতাম কিন্তু এখনআর পোকেমনের পেছনে তাড়া করার সময় সুযোগ পাইনা।
এমনকি কয়েকটা প্ল্যাকার্ডও লাগানো আছে পার্কের ভেতরে। সেখানে সুন্দর ছবি(ক্যারেক্টার আইকন) দেওয়া। ছবিতে একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষ মোবাইল ব্যবহার করার কারণে যেন টক্কর না খায় সেটার ব্যাপারে সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়া।
ওই সময়ে আমার কাছে মনে হল আমি পোকেমন না খেলায় অন্তত এই ১০০ জনের চেয়ে বুদ্ধিমান। কোন প্রোডাক্টিভ কাজের জন্য সময় দিচ্ছি।
অগত্যা স্টারবাকস পার করে আবার এই হেকিনান সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
সাকুরা দেখতে আমি চেরি ফুল বনে গিয়ে বোকা বনে আসলাম।
আমি খেয়াল করে দেখলাম আনজু সিটি হলের পাশে প্রায় ১০০ জন মানুষ ঘোরাঘুরি করছে তাতে এবং সবার হাতেই কমপক্ষে দুইটা মোবাইল এবং সর্বোচ্চ চারটা। কেউ কেউ গলায় একটা হার্ড বোর্ড ঝুলিয়ে তার উপরে চারটা মোবাইল পাশাপাশি রেখে দিয়েছে। একবার ভাবলাম এই দেশের মানুষ ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করার জন্য এতটা উতলা হতে পারেই না। তাই কাছে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম। যেটা দেখলাম তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। সবাই মিলে পোকেমন গো গেম খেলছে। সেখানে আমার দেখা ১৩/১৪ বছর বয়সী বাচ্চা থেকে শুরু করে ৭০/৮০ বছর বয়সী ছেলে-মেয়ে, বুড়ো-বুড়ি, তরুণ -তরুণীসহ সব বয়সী মানুষই রয়েছে এবং সবাই পোকেমন গো খেলায় ব্যস্ত।
যারা পোকেমন গো খেলেছেন তারা জানবেন পোকেমন বল সংগ্রহ করার জন্য নিকটস্থ কোনো বড় টাওয়ারের কাছে যেতে হয় সেখানে বল পাওয়া যায় এবং জায়ান্ট, রেয়ার পোকেমন পাওয়া যায়। এক সময় আমিও খেলতাম কিন্তু এখনআর পোকেমনের পেছনে তাড়া করার সময় সুযোগ পাইনা।
এমনকি কয়েকটা প্ল্যাকার্ডও লাগানো আছে পার্কের ভেতরে। সেখানে সুন্দর ছবি(ক্যারেক্টার আইকন) দেওয়া। ছবিতে একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষ মোবাইল ব্যবহার করার কারণে যেন টক্কর না খায় সেটার ব্যাপারে সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়া।
ওই সময়ে আমার কাছে মনে হল আমি পোকেমন না খেলায় অন্তত এই ১০০ জনের চেয়ে বুদ্ধিমান। কোন প্রোডাক্টিভ কাজের জন্য সময় দিচ্ছি।
অগত্যা স্টারবাকস পার করে আবার এই হেকিনান সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
সাকুরা দেখতে আমি চেরি ফুল বনে গিয়ে বোকা বনে আসলাম।

কোন মন্তব্য নেই