Japan Guide 101
Japan Guide 101
জাপানের মাটিতে পা রাখার পর প্রথমেই যেটা মনে হবে সেটা হল বাড়িতে খবর পাঠানো যে আপনি ভালোভাবে অবতরণ করেছেন। কিন্তু জানাবেন কীভাবে? ইন্টারনেট লাগবে। ইন্টারনেট পাবেন কোথায়?
FamilyMart, Lowson, 7Eleven থেকে শুরু করে এমন অনেক শপিং মলে ফ্রিফ্রি মলমূত্র করার পাশাপাশি তাদের ওয়াইফ থুক্কু ওয়াইফাই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। Japan Free Wifi App টি মোবাইলে ইন্সটল করে রেজিস্ট্রেশন করে নিলেই তারপর সারা জাপানে এটা দিয়ে কাজ চালাতে পারবেন। অনেক স্টেশন থেকে শুরু করে রেস্তোরা, শপিং মল সর্বত্রই ফ্রি ওয়াইফাই পাবেন। ফ্রিতে আরো কয়েকটা অ্যাপ ডাউনলোড করে রাখুন।
১। Google Maps (কোথায় কারো ভেতরে হারিয়ে গেলে নিজের লোকেশন শেয়ার করে দিন, সহজেই খুজে পাওয়া যাবে। তাছাড়া ম্যাপের প্রায় ৯০% সঠিক তথ্য। এক জায়গয়া থেকে আরেক জায়গাতে যাবার সবচেয়ে ভাল রাস্তা খরচসহ গুগল ম্যাপ দেখিয়ে দেবে।
২। Google Translator- জাপানিজ ল্যঙ্গুয়েজটা অফলাইন ডাটাসহ ইন্সটল করে রাখুন, সরসরি ভয়েজ দিয়ে কথাবার্তা চালাতে পারবেন।
৩। Google Keep- এর চেয়ে ভাল নোটবুক আর হয়না। যেহেতু সবই গুগলের প্রোডাক্ট ব্যবহার করছেন তাই এইটা ব্যবহার করলে পরবর্তিতে ডাটা সুরক্ষা নিয়ে ভয় নেই। আপনার সকল তথ্য এইখানে সেইভ করে রাখুন যাতে প্রয়োজনে জাস্ট এইখান থেকে কপি পেস্ট করে দ্রুত কাজ সারতে পারেন। যেমন আপনার নাম (পাসপোর্ট অনুযায়ী, এবং জাপানিজ কাতাগানায়), মোবাইল নম্বর, আপনার জাপানিজ ঠিকানা, রেসিডেন্স কার্ডের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, অফিসের ঠিকানা ইত্যাদি। এসব তথ্য অনেক জায়গাতে দরকার হলে জাস্ট এখান থেকে দেখে নিন।
৪। Muslim Pro- নামাজের সময়সূচী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের ধর্মীয় তথ্য বহুল এই অ্যাপ দিয়ে আজান শুনতে পাবেন । জাপানে মসজিদের আজানের ধ্বনিও নেই।
৫। Skype- স্টোর গুলোতে স্কাইপের গিফট কার্ডের ক্রেডিট কিনতে পাওয়া যায়। ১০০০ইয়েন রিচার্জ করে ৬০০ইয়েন দিয়ে বাংলাদেশে কথা বলার জন্য ৪০০ মিনিটের প্যাকেজ কিনতে পারবেন। এই অ্যাপ দিয়ে বাংলাদেশের যেকোন নম্বরেই কল দিতে পারবেন। এছারা জাপানে SadiaTec কোম্পানির অ্যাপ Smart Call JP দিয়েও এই কাজ করা যায়।
৬। Gboard Keyboard- এই অ্যাপ দিয়ে জাপানিজ, বাংলা, ইংরেজি ভয়েস টাইপিং করে সময় বাঁচাতে পারবেন।
৭। Remittance App- এ দেশ থেকে টাকা পাঠানোর জন্য Smiles, Transferwise, Kyodai remittance ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।
এছাড়া জাপানের থাকতে গেলে জন্য আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ অ্যাপের প্রয়োজন হতে পারে। তার ভেতরে Line, Whatsapp, Weather App, Currency Converter, Amazon ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
FamilyMart, Lowson, 7Eleven থেকে শুরু করে এমন অনেক শপিং মলে ফ্রিফ্রি মলমূত্র করার পাশাপাশি তাদের ওয়াইফ থুক্কু ওয়াইফাই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। Japan Free Wifi App টি মোবাইলে ইন্সটল করে রেজিস্ট্রেশন করে নিলেই তারপর সারা জাপানে এটা দিয়ে কাজ চালাতে পারবেন। অনেক স্টেশন থেকে শুরু করে রেস্তোরা, শপিং মল সর্বত্রই ফ্রি ওয়াইফাই পাবেন। ফ্রিতে আরো কয়েকটা অ্যাপ ডাউনলোড করে রাখুন।
১। Google Maps (কোথায় কারো ভেতরে হারিয়ে গেলে নিজের লোকেশন শেয়ার করে দিন, সহজেই খুজে পাওয়া যাবে। তাছাড়া ম্যাপের প্রায় ৯০% সঠিক তথ্য। এক জায়গয়া থেকে আরেক জায়গাতে যাবার সবচেয়ে ভাল রাস্তা খরচসহ গুগল ম্যাপ দেখিয়ে দেবে।
২। Google Translator- জাপানিজ ল্যঙ্গুয়েজটা অফলাইন ডাটাসহ ইন্সটল করে রাখুন, সরসরি ভয়েজ দিয়ে কথাবার্তা চালাতে পারবেন।
৩। Google Keep- এর চেয়ে ভাল নোটবুক আর হয়না। যেহেতু সবই গুগলের প্রোডাক্ট ব্যবহার করছেন তাই এইটা ব্যবহার করলে পরবর্তিতে ডাটা সুরক্ষা নিয়ে ভয় নেই। আপনার সকল তথ্য এইখানে সেইভ করে রাখুন যাতে প্রয়োজনে জাস্ট এইখান থেকে কপি পেস্ট করে দ্রুত কাজ সারতে পারেন। যেমন আপনার নাম (পাসপোর্ট অনুযায়ী, এবং জাপানিজ কাতাগানায়), মোবাইল নম্বর, আপনার জাপানিজ ঠিকানা, রেসিডেন্স কার্ডের নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, অফিসের ঠিকানা ইত্যাদি। এসব তথ্য অনেক জায়গাতে দরকার হলে জাস্ট এখান থেকে দেখে নিন।
৪। Muslim Pro- নামাজের সময়সূচী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের ধর্মীয় তথ্য বহুল এই অ্যাপ দিয়ে আজান শুনতে পাবেন । জাপানে মসজিদের আজানের ধ্বনিও নেই।
৫। Skype- স্টোর গুলোতে স্কাইপের গিফট কার্ডের ক্রেডিট কিনতে পাওয়া যায়। ১০০০ইয়েন রিচার্জ করে ৬০০ইয়েন দিয়ে বাংলাদেশে কথা বলার জন্য ৪০০ মিনিটের প্যাকেজ কিনতে পারবেন। এই অ্যাপ দিয়ে বাংলাদেশের যেকোন নম্বরেই কল দিতে পারবেন। এছারা জাপানে SadiaTec কোম্পানির অ্যাপ Smart Call JP দিয়েও এই কাজ করা যায়।
৬। Gboard Keyboard- এই অ্যাপ দিয়ে জাপানিজ, বাংলা, ইংরেজি ভয়েস টাইপিং করে সময় বাঁচাতে পারবেন।
৭। Remittance App- এ দেশ থেকে টাকা পাঠানোর জন্য Smiles, Transferwise, Kyodai remittance ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।
এছাড়া জাপানের থাকতে গেলে জন্য আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ অ্যাপের প্রয়োজন হতে পারে। তার ভেতরে Line, Whatsapp, Weather App, Currency Converter, Amazon ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
যাইহোক প্লেন থেকে নেমে বাড়িতে জানানোর পরই তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে কিছু খেয়েছিস বাপ? আপনি আপাতত সহজ ভাবে হ্যাঁ বলে দিলেও জাপানে খাবার খাওয়া এতোটা সহজ না। ইন্টারনেটে একটা তালিকা আছে যেখানে আপনি হারাম খাবারের বিষয় জানতে পারবেন এবং সেই হিসেবে আমার ধারণা প্রায় ৮০-৯০ ভাগ খাবার আপনি খেতে পারবেন না। এদেশে আপনার ইনকাম ১০০% হালাল যেহেতু সেহেতু খরচটাও হালাল ভাবেই নাহয় করলেন। আমাদের দেশে ব্যাপারটা একেবারেই উলটা। এখানে এসে শুকুরের গোসত ছাড়া বাকী সব খাবেন চিন্তা করলে কিন্তু মহাবিপদ। কারণ জাপানে হালাল দোকানের গোসত ছাড়া সবই হারাম। অর্থাৎ বাইরে থেকে কেনা শুকুর আর মুরগী একই কথা। আচ্ছা, যদি ভাবেন যে অ্যালকোহল খাবনা, সেখানেও ঝামেলা। মদ/বিয়ার ছাড়াও মিষ্টি, কেক চকলেটের ভেতরে মিরিন, সাকে নামের অ্যালকোহল আছে।
ভাববেন পাউরুটি কলা খেয়ে চালাবেন, কলা কোন মতে নিতে পারলেও পাউরুটিটা আটকে যাবে ফ্যাটের কারনে। মার্গারিন নামক এক ধরনের ফ্যাট আছে যা আনিমেল থেকে সংগ্রহ করা হয়। এই তেল চর্বি ইত্যাদি রুটি বানানোতে ব্যবহার হয়। এতো না বুঝলে লিস্টটা কাউন্টারে দেখিয়ে বলবেন এইগুলো ছাড়া কি কি আছে, দেখিয়ে দিলে খাবেন না হয় গান শুনে চলে আসবেন।
জাপানের হালাল শপে দেশীও সবই পাবেন, আজ ওর্ডার দিলে কালই চলে আসবে। ততক্ষণ ফল ফুল দিয়ে কাজ চালান আর বাসন কোসনের, আসবাবপত্র ব্যবস্থায় মননিবেশ করুন। Hard off নামের দোকানে খুবই অল্প দামে বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত ব্যবহার্য জিনিস পাতি পাবেন। আমরা ১০০ ইয়েন দিয়ে ফ্রিজ কিনেছি, ২০০ ইয়েন দিয়ে টেবিল, ১০০ ইয়েনের চেয়ারসহ অনেক কিছুই সস্তায় কিনে চালিয়েছি । এছাড়া রিসাইকেল শপ লিখে ম্যাপে সার্চ দিলে আরো পাবেন। জাপানিরা বলে Ones man trash is another man's treasure অর্থাৎ একজনের কাছে যেটা মূল্যহীন হয়ে পড়ে আছে সেটা হয়ত আরেকজনের কাছে অনেক মূল্যবান। তাই এইসব দোকানকে ভরসা করে আপাতত কিছুদিন নাহয় কাজ চালানো গেলো।
সাইকেল কিন্তু একটা অবশ্যই কিনবেন এবং রেজিস্ট্রেশন করে নেবেন। আপনার সাইকেল কেউ ছুঁয়েও দেখবে না, তবে আপনি কারো সাইকেল চালানো অবস্থায় পুলিশ ধরলে কেস খেয়ে যেতে পারেন। ওসব না খেয়ে বরং খাবার কিনতে গেলে Felna, Lowson 100, Genky, Velor এইসব দোকানে চলে যান, স্বল্পমূল্যে পাবেন। তবে একটা কলার দাম ১০৮ ইয়েন দেখে মাথা ঘুরতে পারে। এক কলার দামে ১০টা ডিম পাবেন। মাথায় রাখবেন যেসব দোকান ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে সেখানে দাম একটু বেশিই।
ইতোমধ্যে যার মাধ্যমে এসেছেন তাকে ব্লুন আপনার জন্য একটা মডেম ওর্ডার করে দিতে। ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ ইয়েনের মাসিক বিল হিসেবে একটা মডেম সাথে থাকলে হারাবেন না। স্টেশনে গিয়ে হারানোর ঘটনা প্রাত্যহিক ব্যাপার। ঘাবড়াবেন না। এদেশে পুলিশ থেকে শুরু করে স্টেশন মাস্টার সবাই আপনার জন্য জান দিয়ে দেবে।
নতুন বলে পার পাবেন না যেসব ক্ষেত্রে তা হল, রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে জাপানকে বাংলাদেশ ভেবে ভুল করলে, অর্থাৎ সিগন্যাল না মানলে, রাস্তায় সাইকেল চালানো অবস্থায় হেডফোন ব্যবহার করলে বা রাতের বেলায় সাইকেলে লাইট না জালালে। যেকোন অবস্থায় সাথে রেসিডেন্স কার্ড না থাকলে, কেউ দেখছে না ভেবে কারো জিনিস ধরলে(যেহেতু জাপানের প্রায় সকল জনবহুল এলাকা, দোকানপাট, স্টেশন, শপিংমল ইত্যাদি সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত)। টয়লেট ছাড়া যেখানে সেখানে এটা- ওটা ধরে দাঁড়িয়ে পড়লে বা হিসু করলেও ঝামেলায় পড়বেন। দেখবেন, বাংলা সিনেমার নায়কের মতন কোথায় থেকে যেন পুলিশ এসে আপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। ধরা খাবেন কিন্তু। আর খাবেনই যদি তাহলে রেস্টুরেন্টে যান না। জাপানে KFC, McDonalds, Starbucks, Domino’s Pizza ইত্যাদি দোকানগুলো মাশাআল্লাহ হারাম আছে। তবে ওয়াইফাইটা ফ্রি, ওটা হালাল। ওখানে বসে একটু জিরিয়ে নিলেন নাহয়। কারণ এখানে অসময়ে ঘুম আসলে মাথায় রাখবেন বাংলাদেশের সাথে ৩ ঘণ্টার টাইমজোনের পার্থক্য থাকায় প্রথম কিছুদিন জাপানে আপনার ঘুম ভাঙবে বেলা ১১টাই, অর্থাৎ আপনি বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টাতে নবাবী হালত-এ ঘুম থেকে উঠেছেন। আর ঘুম থেকে উঠে যদি টয়লেট যেতে হয়ই, তাহলে মাঠেঘাটে বসে পড়বেন না। কারণ বাংলাদেশে একটাকা গ্লাস পানি কিনে খেয়ে ৩টাকা দিয়ে হিসু করতে হয়, আর হাগু করলে ১০ টাকা। তবে জাপানে বাসায় ভিড় হলে পাসের স্টোরগুলোতে চলে যাবেন, পুরো জাপান হাগা ফিরি শুধু বসার আগে দেখে নিবেন পানি ছোয়ানোর সুযোগ আছে কিনা। না হলে ধর্ম চলে যাবে। তবে বিদেশ ভুঁইয়ে ধর্ম-কর্ম সম্পর্কে আরো জানতে আপনি তাবলীগ জামাতে যেতে পারেন। মাসে অন্তত দুই দিন আল্লাহর রাস্তায় সময় দিলেন, মসজিদের আবহাওয়াতে থাকলেন, ঈমানের রিচার্জ হলো। এই দুইদিন আপনি ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়ার সুযোগ পাবেন। কারণ জাপানে মসজিদের সংখ্যা খুবই কম। আপনাকে মসজিদে যেতে হলে কি কি করতে হবে পারে, তা আমার জানা নেই।
বিস্তারিত জানতে চাইলে যারা এখানে অনেকদিন আছেন, তাদের কাছে পরামর্শ চেয়ে বিরক্ত করুন।
কোন মন্তব্য নেই