ময়লাদের জন্য জাপান স্বর্গরাজ্য
প্রশ্নঃ"ময়লাদের জন্য জাপান স্বর্গরাজ্য " বলতে কবি এখানে কি বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তরঃ উপরিউক্ত অংশটুকু জাপানদেশে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত একজন নব্য প্রবাসীর দুই আংগুলের 'বড়লেখা' কেচ্ছা থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে কবি ময়লার স্বর্গরাজ্য বলতে জাপানের 'ময়লা আবর্জনার বোঝা' ব্যবস্থাপনার কৌশল এবং সুবিধা সম্পর্কে বোঝাতে চেয়েছেন।
জাপানে এসে প্রায় দুই মাস সময়ের ভেতরে জাপানী ভাষা যতটা না শিখেছেন, তারচেয়ে কবি জাপানী সংস্কৃতি বেশি পরিমাণে শিখেছেন এবং প্রতিদিনই নতুন করে শিখছেন। জাপানী সভ্যতা অথবা জাপানীদের সভ্যতা - যাই বলুন না কেনো জাপানীরা পপ করেই এমন উপরে ওঠেনি। ওদের পেছনে আছে "পপ"। একটা 'প'-তে পরিচ্ছন্নতা, আরেকটাতে পরিশ্রম।
তাদের এই সভ্যতার প্রথম সোপান হিসেবে কবি পরিচ্ছন্নতাকে আঁচ করতে পেরেছেন সবার শুরুতে। জাপানীদের শরীর-মন, কাপড়চোপড় থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, গ্রাম-শহর সর্বত্রই চকচকে একটা ভাব। অবশ্য কবির "রেড হ্যাট" ওয়ালা এক বড় ভাই তার সাদামনে একথা মানতে নারাজ। তিনি এই লাল সাদা পতাকার মানুষদেরকে নোংরা বলেন। জাপানিরা নাকি হেগে পানি নেয়না! কবি তাতে দ্বিমত পোষণ করেন এবং বলেন "তাতে কি যায় আসে বাপু? তুমি তো আর ওদের পেছনে হাত দিয়ে বেড়াচ্ছো না!
(তো পেছনের ময়লা দূরে সরিয়ে রেখে গল্পের সামনে আগানো যাক)
জাপানীরা এদের সকল ধরনের ময়লাকে সকাল সকাল আলাদা আলাদাভাবে রাখতে পছন্দ করে। ময়লার স্বজাতিপ্রীতি বজায় রেখে তাদের জাতিভেদে বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য কত-শত রকমের বস্তার বন্দোবস্ত তার ইয়ত্তা নেই। সেকারণেই অফিস, বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাটে হিসেব করে আলাদা আলাদা ময়লা ফেলার ব্যবস্থা। যদিও রাস্তায় ময়লা ফেলার কোন ডাস্টবিন রাখেনি ওরা। তাই সবাই পকেটে করেই বাসায় ময়লা নিয়ে নির্দিষ্ট বাকেটে যায়। আমার অফিসে পলিথিন ফেলার জন্য আলাদা ব্যাগ, কাগজের ময়লা জন্যেও একটা আছে, প্লাস্টিকের ম্যাটেরিয়ালের জন্য একটা, লোহালক্করের জন্য একটা, কাঁচের জন্য একটা। মানে "কোন ময়লা কোথায় ফেলবো -১০১" কোর্সই এখনো শেষ হলো না। তবে অফিসের ক্যানটিনে কোন ময়লা ফেলার জায়গা নেই। যা ময়লা ব্যক্তি সাথে নিয়ে আসবে, ঐ যে পকেটে করে নিয়ে যেতে হবে। আর এই ভাসা ভাসা ময়লা নিয়ে যাওয়ার জায়গা বলতে বাসা। বাসাতে বিভিন্ন দ্রবীভূত ময়লার সাথে আছে আরো উপদ্রব। পচনশীল ময়লা একখানে তো টিনের ক্যান আরেক জায়গায়, কাঁচের জিনিস আলাদা তো প্লাস্টিকের আলাদা। পলিথিন আলাদা, কাপড়চোপড় আলাদা এরকম আরো নাহলেও ১০ থেকে ২০ পদের ময়লা আছে এবং তাদেরকে আলাদা থাকাই চাই।
স্বভাবতই বাঙালী হবার কারণে কিছুটা ফাঁকিবাজির আশ্রয় নেওয়া রক্তে মিশ্রিত আছে বলে কবি বিশ্বাস। কবি একদিন (এতো কাহিনী জানার আগে) সব ধরণের ময়লা মিশিয়ে বানানো একটা খিচুড়ির ব্যাগ বাসার সামনের নির্ধারিত জায়গাতে রেখে আসেন এবং অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু টানা ১০ দিন পরেও যখন সবার ময়লা নিয়ে যায় অথচ উনার প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন, তখন উনার সন্দেহ হয়। পরের দিন অতি সকালে নোটিস সম্বলিত একটা ইস্টিকার দেখতে পান ব্যাগের গায়ে। সেটার গায়েই ওটা লেখা যে, ময়লাদেরকে দিয়ে খিচুড়ি না বানিয়ে চালের জায়গায় চাল, মশলার জায়গায় মশলা আর ডালের জায়গায় ডাল রাখতে। ইস্টিকারের ডিস্ট্রিক্ট সিটি কর্পোরেশন একটা ক্যালেন্ডারও দিয়ে দেন। কোন কোন তারিখে কী পদের ময়লা নেওয়া হবে, কোন অঞ্চলে কবে নেওয়া হবে, কোন সাইজের, কোন নির্ধারিত ব্যাগে ময়লা ফেলতে হবে ইত্যাদিও লেখা আছে তাতে। তাই চাইলেই জাপানে ময়লাদেরকে বাসা থেকে চট করে ঘাড় ধরে বার করেও দেওয়া যায়না। আবার ময়লাদেরকে বেশীদিন বাসায় আটকেও রাখা যায়না। তাই জাপানের ময়লাগুলো জাতিভেদে আমৃত্যু থাকে স্বাধীন। এরকারনেই কবি জাপানের ময়লাদেরকে তাদের জীবনাবস্থায় এবং জীবনাবসানের পরেও স্বজাতিদের সাথে থাকতে পারার এই অপার সুযোগ কে স্বর্গরাজ্যের সাথে তুলনা করেছেন।
(গায়ের জ্যাকেটটা আজো পরিষ্কার করিনি এখনও নতুনই আছে, রোজ পরি)
জাপানে এসে প্রায় দুই মাস সময়ের ভেতরে জাপানী ভাষা যতটা না শিখেছেন, তারচেয়ে কবি জাপানী সংস্কৃতি বেশি পরিমাণে শিখেছেন এবং প্রতিদিনই নতুন করে শিখছেন। জাপানী সভ্যতা অথবা জাপানীদের সভ্যতা - যাই বলুন না কেনো জাপানীরা পপ করেই এমন উপরে ওঠেনি। ওদের পেছনে আছে "পপ"। একটা 'প'-তে পরিচ্ছন্নতা, আরেকটাতে পরিশ্রম।
তাদের এই সভ্যতার প্রথম সোপান হিসেবে কবি পরিচ্ছন্নতাকে আঁচ করতে পেরেছেন সবার শুরুতে। জাপানীদের শরীর-মন, কাপড়চোপড় থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, গ্রাম-শহর সর্বত্রই চকচকে একটা ভাব। অবশ্য কবির "রেড হ্যাট" ওয়ালা এক বড় ভাই তার সাদামনে একথা মানতে নারাজ। তিনি এই লাল সাদা পতাকার মানুষদেরকে নোংরা বলেন। জাপানিরা নাকি হেগে পানি নেয়না! কবি তাতে দ্বিমত পোষণ করেন এবং বলেন "তাতে কি যায় আসে বাপু? তুমি তো আর ওদের পেছনে হাত দিয়ে বেড়াচ্ছো না!
(তো পেছনের ময়লা দূরে সরিয়ে রেখে গল্পের সামনে আগানো যাক)
জাপানীরা এদের সকল ধরনের ময়লাকে সকাল সকাল আলাদা আলাদাভাবে রাখতে পছন্দ করে। ময়লার স্বজাতিপ্রীতি বজায় রেখে তাদের জাতিভেদে বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য কত-শত রকমের বস্তার বন্দোবস্ত তার ইয়ত্তা নেই। সেকারণেই অফিস, বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাটে হিসেব করে আলাদা আলাদা ময়লা ফেলার ব্যবস্থা। যদিও রাস্তায় ময়লা ফেলার কোন ডাস্টবিন রাখেনি ওরা। তাই সবাই পকেটে করেই বাসায় ময়লা নিয়ে নির্দিষ্ট বাকেটে যায়। আমার অফিসে পলিথিন ফেলার জন্য আলাদা ব্যাগ, কাগজের ময়লা জন্যেও একটা আছে, প্লাস্টিকের ম্যাটেরিয়ালের জন্য একটা, লোহালক্করের জন্য একটা, কাঁচের জন্য একটা। মানে "কোন ময়লা কোথায় ফেলবো -১০১" কোর্সই এখনো শেষ হলো না। তবে অফিসের ক্যানটিনে কোন ময়লা ফেলার জায়গা নেই। যা ময়লা ব্যক্তি সাথে নিয়ে আসবে, ঐ যে পকেটে করে নিয়ে যেতে হবে। আর এই ভাসা ভাসা ময়লা নিয়ে যাওয়ার জায়গা বলতে বাসা। বাসাতে বিভিন্ন দ্রবীভূত ময়লার সাথে আছে আরো উপদ্রব। পচনশীল ময়লা একখানে তো টিনের ক্যান আরেক জায়গায়, কাঁচের জিনিস আলাদা তো প্লাস্টিকের আলাদা। পলিথিন আলাদা, কাপড়চোপড় আলাদা এরকম আরো নাহলেও ১০ থেকে ২০ পদের ময়লা আছে এবং তাদেরকে আলাদা থাকাই চাই।
স্বভাবতই বাঙালী হবার কারণে কিছুটা ফাঁকিবাজির আশ্রয় নেওয়া রক্তে মিশ্রিত আছে বলে কবি বিশ্বাস। কবি একদিন (এতো কাহিনী জানার আগে) সব ধরণের ময়লা মিশিয়ে বানানো একটা খিচুড়ির ব্যাগ বাসার সামনের নির্ধারিত জায়গাতে রেখে আসেন এবং অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু টানা ১০ দিন পরেও যখন সবার ময়লা নিয়ে যায় অথচ উনার প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন, তখন উনার সন্দেহ হয়। পরের দিন অতি সকালে নোটিস সম্বলিত একটা ইস্টিকার দেখতে পান ব্যাগের গায়ে। সেটার গায়েই ওটা লেখা যে, ময়লাদেরকে দিয়ে খিচুড়ি না বানিয়ে চালের জায়গায় চাল, মশলার জায়গায় মশলা আর ডালের জায়গায় ডাল রাখতে। ইস্টিকারের ডিস্ট্রিক্ট সিটি কর্পোরেশন একটা ক্যালেন্ডারও দিয়ে দেন। কোন কোন তারিখে কী পদের ময়লা নেওয়া হবে, কোন অঞ্চলে কবে নেওয়া হবে, কোন সাইজের, কোন নির্ধারিত ব্যাগে ময়লা ফেলতে হবে ইত্যাদিও লেখা আছে তাতে। তাই চাইলেই জাপানে ময়লাদেরকে বাসা থেকে চট করে ঘাড় ধরে বার করেও দেওয়া যায়না। আবার ময়লাদেরকে বেশীদিন বাসায় আটকেও রাখা যায়না। তাই জাপানের ময়লাগুলো জাতিভেদে আমৃত্যু থাকে স্বাধীন। এরকারনেই কবি জাপানের ময়লাদেরকে তাদের জীবনাবস্থায় এবং জীবনাবসানের পরেও স্বজাতিদের সাথে থাকতে পারার এই অপার সুযোগ কে স্বর্গরাজ্যের সাথে তুলনা করেছেন।
(গায়ের জ্যাকেটটা আজো পরিষ্কার করিনি এখনও নতুনই আছে, রোজ পরি)

কোন মন্তব্য নেই