পুকুরাতংক
পুকুর+আতংক = পুকুরাতংক
পুকুরে গোসল করছি আর ভাবছি প্রায় ৭ বছর আগের কথা। পানিতে একটা ডুব দেওয়ার পর মনে পড়ল যে একটু পরেই আজ আবার কুষ্টিয়া যেতে হবে ।
সেইদিনও আমি ঠিক গোসল করতে আসছিলাম আর উঠানের উপর রামিম, সুমন, পাভেল, আশিকুল, আর সবুজ স্ক্রিপটা বর্ননা করল আমার কাছে। প্ল্যানমত আমি পাভেল আর সুমন পুকুরে নেমে ডুবসাঁতার শুরু করলাম। পুকুরের মাঝখানে যেতে না যেতেই আমাকে এক জন্তু টাইপের কিছুতে তাড়া করল। বলা ভালো যে ঐটা মহিষের সমান আকারের এবং কালো রঙের। তো আমি চিৎকার করতে থাকলাম জোরে জোরে। সিড়ির উপর বসা রামিম বলতে লাগল “কবি ভাইকে জন্তুতে ধরছে!! কবি ভাইকে জন্তুতে ধরছে!!” । ওর পাশে বসা আশিকুল কিছুই না দেখতে পেয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকল পুকুরের দিকে। সবুজ আর আশিকুলের কানের নিচে দুইটা চটকান দিয়ে বলল “ঐ দেখ! ঐ দেখ! ভালো করে দেখ”। আরো চটকান পড়ার আগেই ওরা ওটা দেখতে পেল। তারপর চিৎকার শুরু হয়ে গেল সিঁড়ির উপর। বড় উঠান থেকে হেনা ফুফু “ছেলে মরে গেল রে কাঞ্চন! পাখা নিয়ে আয়! ধর! ধর!” বলে চেঁচামেচি করতে করতে সিঁড়ির উপর হাজির। এদিকে পাভেল আর সুমন আমাকে আধামরা অবস্থায় উপরে তুলল আর আমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলাম। কেউ আমার হাত ধরে তেল মালিশ করতে, কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে, কেউ বাতাস করতে করতে এক ধরনের সেবাই শুরু করে দিল।
বাড়িতে নিয়ে আসার পর আমার মা কেঁদেই অস্থির। পাড়ার মুরব্বিরা এসে পুকুরের ঐ জায়গাটার গল্প শুরু করে দিল। কোন এক সময় ঐখানে বড় বড় নৌকা ডুবে যেত, মানে মাছে বা জন্তুতে নামিয়ে নিত এবং আরো অনেক পুরাণ গল্প।
যাইহোক কোন রকমে উঠে কুষ্টিয়াতে গেলাম। ফেরার পর তো আমি হিরো! যে-ই দেখে সে-ই তো জিজ্ঞাসা করে “কি রে? শুনলাম তোকে বলে কি যেন তাড়া করেছিল?” আমিও গাঁজাখুরি গল্প শুনিয়ে ছেড়েদিতে থাকলাম এবং আশ্চর্য! এসব কথা শুনে গাঁয়ের লোকেরা পুকুরে নামা বন্ধ করে দিল। আমার মায়ের আধা কেজি পরিমান চিনি এবং আরো কার কার যেন নতুন গরুর দুধ, পয়সা ইত্যাদি ইত্যাদি এই পুকুরটা খেয়েছে ঘটনার ১ সপ্তাহের ভেতরেই। পরে অবশ্য পিচ্চি পোলাপানদের কাছে গল্পটা বিশ্বাসযোগ্য হলেও বড়রা আমার নামের শেষে “বাজ” লাগিয়ে ডাকত।
পানির নিচ থেকে মাথা তুলতেই শুনতে পেলাম কে যেন বলল,
“কিরে এখন আর তোকে জন্তুতে ধরে না?”
লজ্জায় আমার মাথা আবার পানিতে ডুবে গেল।
পুকুরে গোসল করছি আর ভাবছি প্রায় ৭ বছর আগের কথা। পানিতে একটা ডুব দেওয়ার পর মনে পড়ল যে একটু পরেই আজ আবার কুষ্টিয়া যেতে হবে ।
সেইদিনও আমি ঠিক গোসল করতে আসছিলাম আর উঠানের উপর রামিম, সুমন, পাভেল, আশিকুল, আর সবুজ স্ক্রিপটা বর্ননা করল আমার কাছে। প্ল্যানমত আমি পাভেল আর সুমন পুকুরে নেমে ডুবসাঁতার শুরু করলাম। পুকুরের মাঝখানে যেতে না যেতেই আমাকে এক জন্তু টাইপের কিছুতে তাড়া করল। বলা ভালো যে ঐটা মহিষের সমান আকারের এবং কালো রঙের। তো আমি চিৎকার করতে থাকলাম জোরে জোরে। সিড়ির উপর বসা রামিম বলতে লাগল “কবি ভাইকে জন্তুতে ধরছে!! কবি ভাইকে জন্তুতে ধরছে!!” । ওর পাশে বসা আশিকুল কিছুই না দেখতে পেয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকল পুকুরের দিকে। সবুজ আর আশিকুলের কানের নিচে দুইটা চটকান দিয়ে বলল “ঐ দেখ! ঐ দেখ! ভালো করে দেখ”। আরো চটকান পড়ার আগেই ওরা ওটা দেখতে পেল। তারপর চিৎকার শুরু হয়ে গেল সিঁড়ির উপর। বড় উঠান থেকে হেনা ফুফু “ছেলে মরে গেল রে কাঞ্চন! পাখা নিয়ে আয়! ধর! ধর!” বলে চেঁচামেচি করতে করতে সিঁড়ির উপর হাজির। এদিকে পাভেল আর সুমন আমাকে আধামরা অবস্থায় উপরে তুলল আর আমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলাম। কেউ আমার হাত ধরে তেল মালিশ করতে, কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে, কেউ বাতাস করতে করতে এক ধরনের সেবাই শুরু করে দিল।
বাড়িতে নিয়ে আসার পর আমার মা কেঁদেই অস্থির। পাড়ার মুরব্বিরা এসে পুকুরের ঐ জায়গাটার গল্প শুরু করে দিল। কোন এক সময় ঐখানে বড় বড় নৌকা ডুবে যেত, মানে মাছে বা জন্তুতে নামিয়ে নিত এবং আরো অনেক পুরাণ গল্প।
যাইহোক কোন রকমে উঠে কুষ্টিয়াতে গেলাম। ফেরার পর তো আমি হিরো! যে-ই দেখে সে-ই তো জিজ্ঞাসা করে “কি রে? শুনলাম তোকে বলে কি যেন তাড়া করেছিল?” আমিও গাঁজাখুরি গল্প শুনিয়ে ছেড়েদিতে থাকলাম এবং আশ্চর্য! এসব কথা শুনে গাঁয়ের লোকেরা পুকুরে নামা বন্ধ করে দিল। আমার মায়ের আধা কেজি পরিমান চিনি এবং আরো কার কার যেন নতুন গরুর দুধ, পয়সা ইত্যাদি ইত্যাদি এই পুকুরটা খেয়েছে ঘটনার ১ সপ্তাহের ভেতরেই। পরে অবশ্য পিচ্চি পোলাপানদের কাছে গল্পটা বিশ্বাসযোগ্য হলেও বড়রা আমার নামের শেষে “বাজ” লাগিয়ে ডাকত।
পানির নিচ থেকে মাথা তুলতেই শুনতে পেলাম কে যেন বলল,
“কিরে এখন আর তোকে জন্তুতে ধরে না?”
লজ্জায় আমার মাথা আবার পানিতে ডুবে গেল।

কোন মন্তব্য নেই