Header Ads

বাড়ি ফেরার গল্প

বাড়ি ফেরার গল্প 

সূর্য উঠলে আমরা বাস থেকে নামলাম। পিঠে, হাতে ব্যাগ ঝোলানো। আগে থেকেই অপেক্ষরত প্রচলিত পাখি ভ্যানযোগে বাড়ির পথে রওনা দিলাম। ঠান্ডা আর সতেজ বাতাসের গন্ধে চারিপাশটা মেতে উঠেছিল। সবে মাত্র শিশিরের কিছু দানা পড়তে শুরু করেছে এমন কিছু স্বজীব ঘাসও চোখে পড়ল। চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষন গায়ে মেখে নিলাম আবহাওয়াটাকে।
এবার আমার যাত্রাসঙ্গী ছিল ফুফাতো ভাই অভি। সারা রাস্তা আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাতে ঘুমাতে এসেছে ছোট ভাইটি। মুখে তুলে ভাত খাইয়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে প্যান্ট টেনে নিচে নামিয়ে হিসু করিয়ে দেওয়া সবই করতে হয়েছে। ভাই বলে কথা, সানন্দে করেছি। পথের ভেতর ওর আইকিউ টেস্ট নিতে গিয়ে আরেক ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছি।
আমিঃ কোন ক্লাসে পড়ো ভাইয়া?
অভিঃ ক্লাস ফোর।
আমি যথারীতি কমন প্রশ্নটাই করে বসলাম, "ফোর বানান করো দেখি?"
অভি এক নিঃশ্বাসে উত্তর দিলো "এফ ও ইউ আর, ফোর"
আমিঃ আর বাংলায় বানানা কি হবে?
অভিঃ চ-এ আ'কার র, চার
আমিঃ আরে বোকা 'ফোর' বানান কর! বাংলায়!
অভিঃ বললাম তো, চ-এ আ'কার র, চার
আমিঃ সে তো চার হলো, 'ফোর' হলো কোথায়??
অভিঃ ফোর তো আগেই বানান করে দিলাম ভাইয়া, "এফ ও ইউ আর, ফোর"
আমিঃ বাংলায় বানান কর, গাধা!
অভিঃ ফোর-কে তো বাংলায় চার-ই বলে, তাইনা? তাহলে!
আমি খুব সহজেই ওর কাছে পরাজিত হলাম। তারপর আরো অনেক এটা সেটা দিয়ে শেষ পর্যন্ত ফোর বের করেছিলাম। অলিভিয়া ফুফু অপেক্ষা করতে ছিল অভির পথ চেয়ে। ব্যাটা ফুফুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা মাত্র ভাই ভুলে মাতৃকোড়ে স্থান করে নিল। আর আমি উঁকি দিলাম আমার আম্মুকে দেখার আশায়। আম্মু তখনও বাড়ির ভেতর থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। আমি ভ্যান ছেড়ে বাড়ির পথে পা বাড়াতেই দেখি, আম্মুর আনন্দাশ্রু। মা আমার শুকিয়ে গেছে। আর তার চেয়েও ভয়ানক ভাবে শুকিয়ে গেছে আমার নব্বই বছর বয়সী দাদা। উনি কেন জানি আমাকে দেখে তার আবেগ থামিয়ে রাখতে পারেন না। তার ভেতরের চাপা কথাগুলো উনি আমার কাছে অনায়াসেই বলে ফেলে। আমাকে বুকে টেনে রাখলেন অনেকক্ষণ। আমি অনুভব করলাম, দাদা শরীরে লেগে থাকা বার্ধ্যকের ঘ্রাণ।



কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.